সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় আলহাজ জুট মিল। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ফের চালুর দাবিতে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন করে আসছেন বেকার শ্রমিকেরা। এদিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিনের পর দিন বন্ধ মিলে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে হচ্ছে চুরি, যার নেই কোন ব্যবস্থাপনা নজরদারি। মিল ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ি-দিয়ারকৃষ্ণাই এলাকায় আলহাজ্ব জুট মিলটি স্থাপিত হয়। এ মিলে পাটের তৈরি বস্তা, ব্যাগ ও কার্পেটের সুতা প্রস্তুত করা হতো। গড়ে দৈনিক প্রায় ১৫ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন হতো। সেখানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১৫ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অর্ধশত বছরের প্রাচীন আলহাজ্ব জুট মিল ২০১৮ সালে ২০ জুলাই হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এক সময়ে পাটশিল্পের জন্য দেশের ‘দ্বিতীয় ড্যান্ডি’ হিসেবে খ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে মিলটি বন্ধের প্রতিবাদ ও পুনরায় চালুর দাবিতে গত ৭ বছর যাবত দফায় দফায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে আসছেন শ্রমিক ও স্থানীয়রা। এদিকে দাবি পুরণে কর্তৃপক্ষ মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও হচ্ছে না তা বাস্তবায়ন। দিনের পর দিনে মিলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ হচ্ছে নষ্ট। অপরদিকে নজরদারির অভাবে হচ্ছে চুরি। মিলটি দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ও সিকিউরিটি গার্ড থাকলেও বেতন না দেওয়াতে সবাই চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।
এদিকে আবার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মিলটি ঢেকে পড়ে অন্ধকার গহীনে। বর্তমানে মিলটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন তিনজন কর্মচারী। কিন্তু চোখের আড়ালে বিভিন্ন সময় মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এক দিকে শ্রমিকদের পুনরায় চালুর দাবি, অন্য দিকে কর্তৃপক্ষে অবহেলায় মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট ও দিনের পর দিন বেড়েই চলছে চুরি। রাজনৈতিক কোন্দলে আওয়ামী লীগের শাসন আমলে থেকেই ধিরে ধিরে বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। কি হতে পারে এই অর্ধশত বছরের প্রাচীন আলহাজ্ব জুট মিলটির ভবিষ্যৎ? বর্তমানে দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমান মাফু জানান, ‘বন্ধ ঘোষণার পরেও অনেক লোক পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন না দেওয়ার কারণে তারা সবাই চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। আমরা তিনজন এখনও বিনা বেতনে আছি। এতবড় মিল তিনজনে পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। ওয়াল পার হয়ে জানালা ভেঙে মেশিনের পিতলের বভিন কেরিয়ার, ফ্যান, মটর, ইলেক্ট্রিক তারসহ মুল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের বেতন দিবে এবং মিলটি চালু করবেন বলে মালিকরা জানিয়েছেন। তবে কবে চালু করবে এটা বলেনি। মালিকপক্ষকে চুরির ঘটনা গুলো জানালে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। মেশিনের মালামাল চুরির সময় আমরা চোরকে হাতে নাতে ধরেছি, কিন্তু তাদের সংখ্যা অনেক বেশি, উল্টা আমাদের মারতে আসে। বিষয়টি মালিককে জানানো হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
